বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হচ্ছে: ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!
কৌশলগত গভীরতা
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়িয়ে এবার ডিজিটাল প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের পথে দুই দেশ।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের এক কূটনৈতিক সফরে দুই দেশ তাদের 'কৌশলগত অংশীদারিত্ব' বা Strategic Partnership-কে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছে। কেবল বাণিজ্য নয়, বরং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিতে চীন বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI) এর সফল বাস্তবায়ন এই সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তুলছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশকে 'স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১' লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় সহায়তা প্রদান করবে। এই অংশীদারিত্বের ফলে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতেও চিনা বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এই গভীর অংশীদারিত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্কও রয়েছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তিগুলো এই অঞ্চলের ভারসাম্যের ওপর নজর রাখছে। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য জানিয়েছে যে, তাদের পররাষ্ট্রনীতি "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়"—এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই তারা সব দেশের সাথে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখছে। চীনের সাথে এই গভীর সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অংশীদারিত্বের ৫টি মূল স্তম্ভ:
- ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট উন্নয়ন।
- প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা।
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প।
- শুল্কমুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ।
- শিক্ষাবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম বৃদ্ধি।